সংরক্ষিত
সত্য প্রকাশে অবিচল ✦ লাভে অটল ✦ সম্পাদকীয় বেঞ্চি ✦ প্রতিষ্ঠা অজানা
সংখ্যা ৪৯ • বর্ধিত সংস্করণ মূল্য: ৩ টাকা (বাকিতে চলিবে না, ধারেও না) আজ, ৮ আগস্ট ২০২৬
❦ ❦ ❦
সত্য প্রকাশে অবিচল, লাভে অটল

সাপ্তাহিক অদ্ভুতুড়ে

"যাহা শুনি নাই, তাহাই ছাপি" — প্রতিষ্ঠাকাল অজানা, সম্ভবত এক মঙ্গলবার লোডশেডিং-এর সময়
সম্পাদক: জনৈক ক্ষুব্ধ নাগরিক প্রধান কার্যালয়: একটি চায়ের দোকানের তৃতীয় বেঞ্চি প্রচার সংখ্যা: ৪১১ কপি (তন্মধ্যে ৩৯৮টি নিজের বাসায়)
সম্পাদকীয় বিজ্ঞপ্তি গত সংখ্যা প্রকাশের পর কিছু পাঠক অভিযোগ করেছিলেন যে রসিকতাগুলো ঠিক জমেনি। সম্পাদকীয় বোর্ড (অর্থাৎ একজন ব্যক্তি, একটি বেঞ্চি) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে — এই সংখ্যায় নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতি, লোডশেডিং ও সংস্কার কমিশন নিয়ে তাজা রসিকতা যোগ করা হয়েছে, সাথে একটি সম্পাদকীয় লগইন ব্যবস্থাও চালু হলো, যাতে সম্পাদক নিজে চাইলেই পাতা বদলে ফেলতে পারেন, কাউকে জিজ্ঞেস না করেই।
শেষ খবর
প্রধান সংবাদ · একচেটিয়া

নির্বাচনের ছয় মাস পর দেশের প্রতিটি চায়ের দোকানে "আমি তো আগেই বলেছিলাম" রোগের প্রাদুর্ভাব

গবেষকদের দাবি, ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণের পরিমাণ এখন মূল নির্বাচনী প্রচারণার চেয়েও দীর্ঘ, তবে সিদ্ধান্তহীনতার হার ঠিক ততটাই অপরিবর্তিত।

রাজধানীর অলিগলিতে গতকাল এক নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয় — প্রতিটি চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসা প্রতিটি মানুষই হঠাৎ নিজেকে নতুন সংসদ, গণভোটের ফলাফল এবং আগামী বাজেটের একচ্ছত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে ঘোষণা করেন। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে "নিয়ন্ত্রণের বাইরে জ্ঞানবৃদ্ধি" আখ্যা দিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে, যদিও বৈঠকের কার্যবিবরণী নিয়ে কেউ একমত হতে পারেননি — যা অনেকের মতে বৈঠকটিকে দেশের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সরকারি আয়োজনে পরিণত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলোচনার সিংহভাগ জুড়ে ছিল "যদি আমাকে ক্ষমতায় বসানো হতো" জাতীয় অনুমান, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বটে, কিন্তু আত্মবিশ্বাসের কোনো ঘাটতিও নেই। একজন আলোচক তো রীতিমতো দ্বিতীয় কাপ চায়ের বিনিময়ে "সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ সময়রেখা" পেশ করে ফেলেন, এবং তৃতীয় কাপের বিনিময়ে সেই সময়রেখা প্রত্যাখ্যান করে সম্পূর্ণ নতুন একটি সময়রেখা দেন, যেটির শেষ তারিখ আগেরটার চেয়েও অনির্দিষ্ট।

অর্থনীতিবিদরা এই ঘটনাকে "মৌখিক জিডিপি" নামে একটি নতুন সূচক দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন, যদিও তাদের নিজেদের হিসাব অনুযায়ী এই সূচকও কোনো এক অজানা চা-দোকানে ইতিমধ্যে বিতর্কিত হয়ে গেছে এবং একটি সংশোধনী প্রস্তাব পাশ হয়েছে চতুর্থ বেঞ্চিতে, যা পঞ্চম বেঞ্চি এখনো মানতে রাজি নয়।

দেশ-বিদেশ পৃষ্ঠা ২–৩ থেকে সংক্ষেপিত
সংস্কার কমিশন ট্র্যাকার পৃষ্ঠা ৪, সরকারি প্রজ্ঞাপন বিভাগ

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে অন্তত এগারোটি সরকারি সংস্কার কমিশন প্রকৃতপক্ষে গঠিত হয়েছিল — নির্বাচন থেকে গণমাধ্যম পর্যন্ত, প্রায় প্রতিটি খাতে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের পরেও তাদের সুপারিশের কী দশা, তা নিয়ে আমাদের নিজস্ব হিসাব নেই, তবে বাকি খাতগুলো বাদ পড়লো কেন, সেই প্রশ্নের একটা কাল্পনিক উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বোতাম চাপুন, সম্পাদকীয় বোর্ড (সেই একই বেঞ্চি) আপনার জন্য পরবর্তী সম্ভাব্য, সম্পূর্ণ কাল্পনিক কমিশনের নাম বাতলে দেবে।

মোট গঠিত কমিশন (আনুমানিক): ১১
আজকের বিদ্যুৎ ও যানজট পূর্বাভাস পৃষ্ঠা ৫, নাগরিক দুর্ভোগ বিভাগ

নির্ভুলতার মাত্রা: চোখ বন্ধ করে ঢিল ছোড়ার সমতুল্য। তবু প্রকাশ করা হলো, কারণ পত্রিকায় একটা পূর্বাভাস বিভাগ থাকা ভদ্রতার লক্ষণ।

সকাল
💡
বিদ্যুৎ

সম্ভাবনা কম, তবে অভিজ্ঞতা বলছে দুপুরেই আসল খেলা শুরু হবে।

যানজট

স্কুলগামী রিকশার দখলে প্রধান সড়ক।

দুপুর
🌑
বিদ্যুৎ

একবার যাবে, ফিরবে কিনা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

যানজট

যানজট এখন কার্যত একটি স্থায়ী স্থাপনা, আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

বিকাল
💡
বিদ্যুৎ

লোডশেডিং সময়সূচি অনুযায়ী চলছে, অর্থাৎ এটি কারো জানা নেই।

যানজট

স্কুল ছুটির সাথে অফিস ছুটি মিলে গিয়ে একটি মহাকাব্যিক জট তৈরি হয়েছে।

সন্ধ্যা
🌑
বিদ্যুৎ

ঠিক খাবার সময়েই চলে যাওয়ার ঐতিহ্যবাহী রীতি আজও বহাল আছে।

যানজট

বাসায় ফেরার তাড়ায় সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে না-নড়ার অনুশীলন করছেন।

রাত
💡
বিদ্যুৎ

ঘুমানোর ঠিক আগে আরও একবার আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

যানজট

রাস্তা অবশেষে ফাঁকা, কারণ সবাই ইতিমধ্যে ক্লান্ত হয়ে বাসায় পৌঁছে গেছেন।

প্রবাসী কর্নার বিদেশ থেকে বিশেষ আলোকপ্রাপ্তি

দেশে বসে থাকা অজ্ঞ জনগণকে বিদেশের জীবন সম্পর্কে নিয়মিত আলোকিত করে চলেছেন আমাদের কাল্পনিক প্রবাসী পাতা। চরিত্রগুলো সম্পূর্ণ মৌলিক ও কাল্পনিক। আজকের নির্বাচিত জ্ঞানকণা:

— জনৈক "স্ট্রাগল করা" প্রবাসী, দুবাই

দেশে থাকলে বুঝতে না, এখানে একটা রুটি কিনতেও হিসাব করতে হয় — যদিও গাড়িটা গত মাসেই আপগ্রেড করেছি, সেটা আলাদা বিষয়, প্লিজ প্রসঙ্গ পাল্টাবেন না।

— এক "মাতৃভূমিকে ভালোবাসা" প্রবাসী, অজানা ইউরোপীয় শহর

দেশের মানুষ যদি এখানকার সিস্টেম দেখতো, তাহলে বুঝতো কেন আমি প্রতি ঈদে দেশে গিয়ে সবাইকে সিস্টেম বোঝাতে বাধ্য হই।

— একজন "নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক" প্রবাসী, পরিচয় অনুল্লেখিত

আমি রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না, শুধু ফ্যাক্ট তুলে ধরি — আর কাকতালীয়ভাবে সেই ফ্যাক্টগুলো সবসময় একই দিকে যায়।

— একজন "ব্যাকপ্যাকারদের জন্য এই শহর না" বিশেষজ্ঞ

আপনারা বেড়াতে আসার আগে অন্তত গবেষণা করে আসবেন। সব কিছুর দাম বেশি জেনেও কেন আসেন, এই প্রশ্নের জবাব আমার কাছে নেই, তবে মন্তব্যে ঝগড়া করার সময় ঠিকই আছে।

— এক "খেলা দেখতে দেশে ফেরা" প্রবাসী, উপসাগরীয় অঞ্চল

সেপ্টেম্বরের সিরিজটা মিস করা যাবে না বলে ছুটি নিয়ে দেশে আসছি — টিকেট এখনো পাইনি, তবে বিমানের টিকেট আগে কনফার্ম হয়ে গেছে, এটাই নাকি এখানকার নিয়ম।

— সম্পাদকীয় সংযোজন

আমরা এই প্রবাসী ভাই-বোনদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা না থাকলে আমরা কখনো জানতেই পারতাম না যে বিদেশের রাস্তাও পিচ দিয়ে বাঁধানো, আর সেটা যে কত বড় একটা অর্জন — তা বোঝাতে তাদের বিকল্প নেই।

রাশিফল পৃষ্ঠা ৬, নির্ভুলতার কোনো গ্যারান্টি নাই
মেষ

আজ কেউ আপনার মতামত চাইবে না, তবু আপনি দেবেন। এটাই আপনার নিয়তি।

বৃষ

টাকা পয়সা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়বে, কারণ টাকা পয়সাই ছিলো না।

মিথুন

আজ দুইটা কথা বলে একটা রাখবেন, এটাই আপনার রাশির চিরায়ত বৈশিষ্ট্য।

কর্কট

পুরনো একটা অভিমান আজ আবার মনে পড়বে। সিন করে রেখে দেবেন না।

সিংহ

নিজেকে প্রধান চরিত্র মনে হবে, বাকি সবাই জানে তারাই আসল গল্প।

কন্যা

আজ কারো ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মহান সুযোগ আসবে। সংযত থাকুন।

তুলা

দুটো বিকল্পের মধ্যে একটা বেছে নিতে আজও সারাদিন লেগে যাবে।

বৃশ্চিক

কারো একটা কথায় আজ সারাদিন গা জ্বলবে। প্রতিশোধ নেবেন নীরবে।

ধনু

ভ্রমণযোগ আছে, তবে সম্ভবত শুধু বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসায়।

মকর

কাজের চাপ বাড়বে, তবু একটু পরে করছি বলাটাই আজকের একমাত্র পরিকল্পনা।

কুম্ভ

নতুন একটা তত্ত্ব মাথায় আসবে যা কেউ শুনতে চাইবে না। তবু বলবেন।

মীন

আজ আবেগের বন্যা আসবে, ছোট্ট একটা রিলস দেখেও চোখ ভিজে যেতে পারে।

জরিপ নমুনা: সেই একই দশজন প্রতিবেশী
প্রশ্ন: "সব ঠিক হয়ে যাবে" কথাটা শুনলে আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কী?
* জরিপ পদ্ধতি: সম্পাদক নিজে হেঁটে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন। মার্জিন অফ এরর: সম্পূর্ণ সাহসের অভাব। আপনার ভোট এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকে।
আপনি আসলে কোন প্রজাতির বিশেষজ্ঞ? পৃষ্ঠা ৭, পাঠক পরীক্ষা ও বিনোদন

পাঁচটি প্রশ্নের একটি বৈজ্ঞানিক(?) পরীক্ষা। কোনো ভুল উত্তর নেই, শুধু বিভিন্ন মাত্রার সততা আছে।

ভাষণ জেনারেটর পৃষ্ঠা ৮, সম্পাদকীয় সহায়ক টুল

টকশোর আগে ভাষণ তৈরি করতে সময় নেই? আমাদের জেনারেটর ঠিক আসল রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের ধাঁচেই তৈরি করে দেবে — অর্থহীন, তবে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। বোতাম চাপুন যতবার খুশি, প্রতিবার নতুন সংস্করণ।

বোতামে চাপুন, ভাষণ শুরু হোক।
মন্ত্রণালয় অজুহাত মেশিন পৃষ্ঠা ৯, জবাবদিহিতা এড়ানোর টুল

লোডশেডিং, যানজট বা ফাইল আটকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কী উত্তর দেওয়া উচিত, তা নিয়ে আমাদের একটি স্বয়ংক্রিয় জেনারেটর আছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, যেকোনো মুখপাত্র ব্যবহার করতে পারেন।

বোতামে চাপুন, একটি প্রাতিষ্ঠানিক অজুহাত পান।
শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন ও শব্দ সাজান পৃষ্ঠা শেষ, তবু গুরুত্বপূর্ণ
বিক্রয় হইবে: একটি অব্যবহৃত বিবেক। অবস্থা প্রায় নতুন, কারণ কখনো ব্যবহারই করা হয়নি। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন — মন্ত্রণালয়ের করিডোরে।
প্রয়োজন: একজন সৎ ঠিকাদার। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকিলেও চলিবে, কারণ এই পদে অভিজ্ঞতা পাওয়াই দুষ্কর।
হারানো বিজ্ঞপ্তি: গত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির একটি সম্পূর্ণ তালিকা হারাইয়াছে। প্রাপ্তিস্থান মোটামুটি জানা থাকিলেও, স্বীকার করিতে কাহারও আগ্রহ নাই।
ভাড়া হইবে: একটি নীরবতা। যেকোনো টকশোতে ব্যবহারযোগ্য, বিশেষত অস্বস্তিকর প্রশ্নের পর। প্রতিমাসে নবায়নযোগ্য, চাহিদা প্রচুর।
বিনিময়: একটি পুরাতন আত্মবিশ্বাস দিয়ে একটি নতুন যুক্তি নেওয়া হইবে। শর্ত: যুক্তিটি অন্তত একবার প্রমাণসহ হইতে হইবে।
আসল নাকি বানানো? গবেষণাভিত্তিক সত্য-যাচাই খেলা

সবগুলো নাম আমাদের গবেষণা থেকে নেওয়া — কিছু সত্যিকারের সরকারি সংস্কার কমিশন, কিছু আমাদের সম্পাদকীয় বোর্ডের কল্পনা। বারোটি রাউন্ডে বলুন কোনটা কোনটা। সতর্কতা: স্কোর কম হলে এর দায় আপনার নয়, বাস্তবতার।